Friday , March 22 2019
Home / Islamic Issue / কেন ইসলামপন্থি দলগুলোর বেহাল দশা
কেন ইসলামপন্থি দলগুলোর বেহাল দশা

কেন ইসলামপন্থি দলগুলোর বেহাল দশা

রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক আদর্শিক গোষ্ঠীগুলো প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে একটি দেশের জনগণের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও সেবক। তারা জনগণকে জ্ঞানগত ও অধিকার সর্ম্পকিত বিষয়ে সচেতন করে। সমসাময়িক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো জনগণের ও সরকারের সামনে তুলে আনে ও তার সমাধান প্রস্তাব করে। দেশের ভিতরে বা বাইরে মানুষ অজ্ঞতা, অশিক্ষা, হানাহানি, অন্যায় ও জুলুমের শিকার হলে তারা সেই জালিম শাসক ও জালিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে মানবতাকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে। অন্তত ধর্মীয় বা ইসলামপন্থি দলগুলোরতো এ সকল কাজ অবশ্য কর্তব্য।
দু:খজনক ব্যাপার হলো আজও আমাদের সমাজে আয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগের মতো নানা রকম অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, কুসংস্কার, অসামাজিক কার্যকলাপ, সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, শিরক, কবর-পীর-ব্যক্তি পুঁজা, মাদক সেবন ও এর ব্যবসা, যৌনতা ও ব্যাভিচারে ভরপুর। এমনকি আমরা দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি বারংবার কিন্তু এসকল সমস্যা রোধে ধর্মীয় বা আদর্শিক গোষ্ঠিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ। পক্ষান্তরে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে যেমন আলেম-ওলামাদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি আলেম-ওলামা তৈরির কারখানা মাদ্রাসা-মসজিদের সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ লক্ষ এবং দেশের প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন মাদ্রাসার ছাত্র (আবুল বারকাত, ২০০৮)। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলের সংখ্যাও বেড়েছে। সর্বোপরি, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। তাই অনেকেই আমাদের এই বিশাল সংখ্যক আলেমদের সমাজ সংস্কারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ডিসেম্বরে নির্বাচন কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও আলেমদের বেহাল দশা। তাদের অবস্থা খুবই দুঃখজনক। সেকুলার দলগুলো দেশের ধর্ম-প্রিয় মানুষগুলোর ধর্মীয় অনুভূতিগুলোকে কাজে লাগিয়ে বা ইসলামপন্থিদের বগল দাবা করে সিংহাসনে আরোহণ করে আসছে গত কয়েকটি নির্বাচনে। কারণ, ইসলামপন্থি দলগুলোর নেই উলে­খযোগ্য কোনো স্বতন্ত্র অবস্থান ও জনসমর্থন। অথচ এই মুসলিম অধ্যুষিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দেশে তাদেরই চালকের অবস্থানে থাকা উচিত ছিল। এবারের নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় আছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মোট ৭০টি ইসলামপন্থি দল ও সংগঠন। এদের ২৯টি প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে পিছু নিয়েছে সেক্যুলার ও নারী-নেতৃত্ব বিশিষ্ট্য আওয়ামী লীগের; এক সময়ের স্বৈরশাসক এরশাদের পাছ ধরেছে ৩২টি অর্থাৎ আওয়ামী-জাতীয়পার্টির জোটের পক্ষ নিয়েছে ইসলামী দলগুলোর ৯০শতাংশ। আর এই আওয়ামী জোটকে সমর্থন করছে হেফজত ইসলামের একাংশ। জাতীয়তাবাদী নারী নেতৃত্ব বিশিষ্ট বিএনপির কাছে আশ্রয় নিয়েছে ৫টি ইসলামপন্থি দল (২০ নভেম্বর ২০১৮, প্রথম আলো)।
আমাদের ইসলামপন্থি দল ও সংগঠনগুলো আজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মতো দুটি ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী (যে সকল আদর্শ অনেক যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের মতে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক) দলের দুই মহিলা নেত্রীর আচলের তলে আশ্রয় নেওয়ার প্রতিযোগিতায় যেন মত্ত। বিভক্তির যেন শেষ নেই দলগুলোর মাঝে। এক হুজুর আরেক হুজুরকে দেখতে পারেনা; এক জায়গায় বসতে পারে না। এমনকি তাবলীগ জামায়াতের মতো অরাজনৈতিক দলের মধ্যেও আজ অনৈক্য-সংঘাত দানা বেধেছে। ইজতেমার মাঠেও আজ সংর্ঘষ হতে তারা নিজেদেও সংহত করতে পারল না! ১ ডিসেম্বরের হানাহানিতে প্রাণ গেছে ১ জনের ও আহত হয়েছে ২০০ জনের মতো (২ ডিসেম্বর ২০১৮, ডেইলি স্টার)। একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের দুই অংশের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও মৃত্যুও ঘটনা সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম! যা সাধারণ মুসলিম, তাদের ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য খুবই মর্মপীড়াদায়ক ও হতাশার। হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে তাবলীগে জামায়াতের আহম্মদ শফি সাহেবের অনুসারীরা গতকয়েক দিন ধরে বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে অথচ যখন লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা-ফিলিস্তনি-ইরাকি-সিরিয়ান ভাই-বোনদের উপর যখন হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে তখন তাদের এভাবে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়নি। স¤প্রতি যখন ইউরোপিয় দেশগুলোতে পবিত্র কুরআন ও হযরত মুহম্মদ (স:) এর কার্টুন একে অবমাননা করা হয়েছে তখনও তারা এমন কোনো প্রতিবাদ সমাবেশ করেননি যা করা অনেক আলেমদের মতে একজন মুসলিমের বা একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের অবশ্য করণীয় দায়িত্ব। অনৈক্য-অসহিষ্ণুতা এমন চুড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে যে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বা মুসলিমদের আকিদা, স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়েও দলগুলো ঐক্যবদ্ধ কোনো বক্তব্য প্রদান বা দাবি আদায়ের সংগ্রামে এক হয়ে রাস্তায় নামতে পারে না। আজকের আলেম সমাজতো সেই আবুবকর-উমরের (সাহাবিদের) উত্তরসূরী, তিতুমীর-হাজী শরীয়তুল­াহর, মাওলান মোহম্মদ আলীদের উত্তরসূরী, তাহলে দেশে বা সমাজের সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কেন এতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে? ইসলামের শিক্ষা থেকে তারাই কি আজ দূরে সরে গেছেন?
আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের প্রথম রাজনৈতিক দল হলো মুসলিমলীগ যা ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি মূলত: প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কংগ্রেসের হিন্দু নেতাদের মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও সা¤প্রদায়িক আচরণের কারণে। তাই মুসলিমলীগের বেড়ে ওঠাটা ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে মুসলিম জাতীয়তাবাদ, স্বাধিকার ও স্বশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দ্বিজাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সৃষ্টিই সেই ইসলামী চেতনার চুড়ান্ত প্রকাশ। অবশ্য এর আগে-পরেও এই ভারতবর্ষে ইসলামী বিভিন্ন গোষ্ঠি ও আলেম-ওলামাদের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও সমাজ সংস্কারে বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের ভূমিকা অনস্বীকার্য; যেমন- ফরাজী আন্দোলন, শহীদ তিতুমীরের স্বাধীনতা যুদ্ধ (১৬৬০), সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৮), খিলাফত আন্দোলন (১৯২২-২৫) ইত্যাদি। আমাদের ইসলামপন্থি দলগুলোইতো নবী-রাসুল-সাহাবীদের উত্তরাধিকারী কিন্তু নিজেদের মধ্যেই যখন এতো অনৈক্য-অসহিষ্ণুতা তারা জাতিকে কীভাবে পথ দেখাবে?
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কি? এ প্রশ্ন নিয়ে আমি কথা বলেছি দেশের ১০ জন ভালো মানের আলেম ও ইমামের সাথে। তাদের প্রত্যেকের আলোচনায় একটা দু:খজনক বিষয় ফুটে উঠেছে, তা হলো- আজকের আলেম ও ইসলামপন্থি দলগুলোর নেতারা দুনিয়ামুখী স্বার্থকে বড় করে দেখছে। ইসলামী আদর্শ বা নবী মুহম্মদ (স:) এর দেখানো পথ থেকে তাদের বেশির ভাগই বিচ্যুতির পথে হাটছেন। তারা ইসলামের নীতি আনুযায়ী তাদের কর্মপন্থা ঠিক করছে না বরং তাদের স্বার্থকে মাথায় রেখে তাদের নিজেস্ব কর্মপন্থা নির্ধারণ করে সেগুলোকে কুরআন-হাদীস অনুযায়ী যায়েয করার ওয়াজ করেন। আজ যা অনেক সাধারণ মানুষের কাছেও বোধগম্য হয়ে উঠছে। ফলে মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়লেও জাতীয় জীবনে বা সমাজ পরিবর্তনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা আনুপাতিক হারে গৌণ হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের দাওয়াতী কার্যক্্রমে বা আন্দোলনেও ভাটা পড়েছে। সাধারণ জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আধুনিক-সুশীল সমাজের মধ্যেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা আজ শূণ্যের কোঠায়। কারণ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও মুসলিম উম্মাহর দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা নিয়মিত কোন কর্মসূচী বা কর্মপন্থা তুলে ধরতে পারছেন না। যেমন- সুদের হার বাড়লে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লে, কোনো মুসলিমজনগোষ্ঠি (রোহিঙ্গা বা ফিলিস্তিনি) জুলুম-নির্যাতনের শিকার হলে জাতীয়পর্যায় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে কিভাবে ইসলাম এ সকল সমস্যার সমাধান দেয় তা জনগনের মধ্যে তুলে ধরার কোনো প্রবণতা আলেমদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। আসছে নির্বাচনে ডানপন্থিদের-বামপন্থি-রামপন্থি সকলেরই ইশতেহার আছে কিন্তু ইসলামপন্থিরা বিভক্ত, বিপন্ন ও পরগাছার মতো আচরণ করছেন। জনগণের সামনে একটি ইসলামী ইশতেহার তুলে ধরার মতো তাদের কারোর যোগ্যতা ও মানসিকতা আছে বলে মনে হয় না। তাহলে তারা কীভাবে সমাজকে নেতৃত্ব দেবেন? কীভাবে সমাজ পরিবর্তন করবেন তা অনেকেরই বোধগম্য নয়। শুধু নামাজ-কালাম আর মিলাদ পড়িয়ে আর বছরে একবার জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে ওয়াজ-মাহফিল করলেই সমাজের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ গড়ে উঠবে বলে মনে হয় না। ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহম্মদ (স:), তাঁর খলিফারা, সাহাবিগণ ও পরবর্তীকালে যে সকল ইসলামী নেতৃত্ব রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে বিশ্বকে প্রায় ১৪০০ বছর ইসলামী সংস্কৃতি ও শাসন দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে যেমন ত্যাগ-তিতিক্ষা-সহিষ্ণুতা-প্রজ্ঞা-সংগ্রামী চেতনা ছিল তার ছিটেফোঁটা এখনকার অধিকাংশ আলেমদের মধ্যে কতটুকু বিদ্যমান তা প্রশ্নসাপেক্ষ। স্মরণ করুন, একজন আলেমের মতকে অন্য একজন আলেম কীভাবে সম্মান করতে হয় তা এক সাহাবি অন্য সাহাবির মতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। স্মরণ করুন- ইমাম শাফী (রহ)-এর ইমাম আবু হানিফার (রহ) মতের প্রতি শ্রদ্ধবোধের দৃষ্টান্ত। তাদেরকে অনুসরণ করলেইতো আলেমদের মাঝে ঐক্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের আলেম সমাজকে ক্ষুদ্র-স্বার্থ ত্যাগ করে শরিয়ার দূরতম ফিকিহ বিষয়গুলোকে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত। সাধারণ মানুষের সামনে কাঁদা ছুড়াছড়ি করে ইসলামের প্রতিপক্ষদের সন্তুষ্ট না করে আল­াহর সন্তুষ্টির জন্য আল­াহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে আকড়ে ধরতে হবে। জাহিলিয়াতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদেরকে শিক্ষিত ও সাবলম্বী হতে হবে অর্থাৎ অন্যদের দান-অনুগ্রহ নিয়ে চলার অভ্যাস ত্যাগ না করলে শক্ত পায়ে অন্যায়কে রুখে দেওয়া যাবে না। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার জানা উচিত। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় স্বল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের মাঝে ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে উত্তম পন্থায়। মনে রাখতে হবে বণীইসরাইলীদের ধ্বংসের প্রধান কারণ ছিল প্রথমে তাদের আলেমদের গোমরাহীতে লিপ্ত হওয়া।
লেখক: পিএইচডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ংযড়যবষফঁ৪১২@মসধরষ.পড়স

About Khan Sarifuzzaman

Check Also

ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের এক দশক

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক ম্যাকিয়াভেলির বিখ্যাত উক্তি ছিল, জোর যার মুলুক তার। পুঁজিবাদী আমেরিকার এই মুলুক ...

2 comments

  1. Hazrat Abu Bakar Radiallahu Anhu and hazrat Umar Radiallahu Anhu er name er seshe Radiallahu Anhu mention hoy nai…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

xu hướng thời trangPhunuso.vnshop giày nữgiày lười nữgiày thể thao nữthời trang f5Responsive WordPress Themenha cap 4 nong thongiay cao gotgiay nu 2015mau biet thu deptoc dephouse beautifulgiay the thao nugiay luoi nutạp chí phụ nữhardware resourcesshop giày lườithời trang nam hàn quốcgiày hàn quốcgiày nam 2015shop giày onlineáo sơ mi hàn quốcshop thời trang nam nữdiễn đàn người tiêu dùngdiễn đàn thời tranggiày thể thao nữ hcmphụ kiện thời trang giá rẻ